শেখ সামসুল আবেদীন

চেয়ারম্যান
জেলা পরিষদ, চুয়াডাঙ্গা


মোবাইল নাম্বার: ০১৭১১-৬৮৮১৩৫
টেলিফোন: ০৭৬১৬২৩৪১
ই-মেইল: chairman@rjmlbd.com
ফ্যাক্স:
ব্যাচ: ০ (বিসিএস)
বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানের তারিখ: ২০১৭-০১-২৫

১৮১৬ এবং ১৮১৯ সালের স্থানীয়ভাবে ফেরী ব্যবস্থাপনা ও রক্ষনাবেক্ষণসড়ক/ সেতু নির্মাণ ও মেরামতের জন্য বৃটিশ সরকার কর্তৃক কর ধার্যের আইন প্রণীত হয়। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর দেশের অর্থনীতি ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বৃটিশ সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এবং ১৮৭০ সালে বেঙ্গল চৌকিদারী আইন প্রণয়ন করে।

১৮৭০ সালে গ্রাম চৌকিদারী আইন পাশের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলে এক স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। ১৮১৭ সনে তৎকালীন বৃটিশ লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে জিলা বোর্ড সেস কমিটি বিল উত্থাপিত হয় এবং ঐ বছরেই তা আইনে পরিণত হয়। এ আইনের অধীন প্রতিটি জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলা বোর্ড সেস কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটি প্রধান কাজ ছিল করের হার নির্ধারণকর আদায় এবং রাস্ত্মাঘাট নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় মেরামত কাজে অর্থ ব্যয় করা। ১৮৭১ সালে দশম বেঙ্গল এ্যাক্ট এর অধীনে একটি রোড কমিটি গঠিত হয়। ১৮৭১ সাল হতে ১৮৮৫ সাল পর্যন্ত এ কমিটির অস্তিত্ব ছিল। স্থানীয় সরকার গঠনের এটিই ছিল প্রাথমিক পদক্ষেপ।

সেস কমিটির অভিজ্ঞতার আলোকে ১৮৮৫ সালে লোকাল সেলফ গভর্ণমেন্ট এ্যাক্ট প্রণীত হয় এবং রোড সেস কমিটির বদলে জেলা বোর্ডের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সরকার গঠনে এ এ্যাক্টই উপমহাদেশে যুগান্তকারী অবদান রাখে। ১৮৮৫ সালে লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট এ্যাক্ট বলে তৎকালীন বাংলায় ১৬টি জেলায় বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড গঠিত হয়। ঢাকাচব্বিশ পরগনানদীয়ামুর্শিদাবাদযশোরখুলনাহুগলীহাওড়াবর্ধমানমেদিনীপুরবাঁকুড়াবীরভূমফরিদপুরপাবনা ও পাটনা। ১৮৮৬ সালের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত্ম ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকার বলে ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হতেন। ১৯৩৬ সনে লোকাল লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট এ্যাক্ট এর সংশোধিত আইনে লোকাল বোর্ডের বিলুপ্তি ঘটে। পরবর্তী পর্যায়ে নির্বচিত চেয়ারম্যান নিযুক্তির মাধ্যমে ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড জনপ্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপলাভ করে এবং এ ধারা ১৯৫৭ সন পর্যন্ত্ম বলবৎ থাকে।

১৯৫৯ সনে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশের অধীন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডকে নতুন আঙ্গিকে পরিণত করে। ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নামকরন করা হয়। এ ব্যবস্থায় ১৯৬৩ সালে জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন হয়। দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ ১৯৬৬ সনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর স্বাধীনতা পরবর্তী কালে ১৯৭২ সনে নির্বাচিত পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জেলা প্রশাসককে এর প্রশাসক করে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের যাবতীয় কার্যাবলী পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা অর্পণ করা হয় এবং ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের স্থলে জেলা বোর্ড নামকরণ করা হয়। ১৯৭৬ সনের স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারী করা হয় এবং জেলা বোর্ডের নামকরন করা হয় জেলা পরিষদ স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন১৯৮৮ এর ধারা ৪(১) অনুযায়ী প্রতিনিধি সদস্যমনোনীত সদস্যমহিলা সদস্য এবং কর্মকর্তা সদস্যগনের সমন্বয়ে জেলা পরিষদ গঠন করা হয়। ১৯৮৮ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলা বোর্ড গঠিত হয়। জেলা পরিষদ আইন,২০০০ এ পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে ০১ (এক) জন চেয়ারম্যান১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনের ০৫ (পাঁচ) জন মহিলা সদস্য সমন্বয়ে পরিষদ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

জেলা পরিষদ আইনে উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন সচিব প্রেষনে পরিষদে ন্যস্ত রাখার বিধান আছে। জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান না থাকায় তার অনুপস্থিতিতে স্থানীয় সরকার কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখার প্রজ্ঞাপন নং ৪৬.০৪২.০৩৩.০৩.০০. ১৪৭.২০১১-৪১৭৩তারিখ ১৫-১২-২০১১খ্রিঃ জারী হওয়ায় জেলা পরিষদ আইন ২০০০ এর (৮২) ধারা মোতাবেক জেলা পরিষদ সমুহে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসকগন জেলা পরিষদের কার্যাবলী সম্পাদন করবেন।

জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ অনুযায়ী ইতিমধ্যে গত ২৮/১২/২০১৬ খ্রি: অনুষ্ঠিত নির্বাচন জেলা পরিষদ গঠিত হয়েছে । ৩টি পার্বত্য জেলা পরিষদ ব্যতীত বাকী ৩১টি জেলা পরিষদে বর্তমানে ১জন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ৫জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ১৫ জন সাধারণ সদস্য রয়েছে । বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এ্ই প্রথম নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠিত হলো ।

তাব্দির বিবর্তনের মধ্য দিয়ে জেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসাবে ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ড, ডিষ্ট্রিক্ট কাউন্সিল, জেলা বোর্ড ইত্যাদি নামে পরিচিত হয়ে আজকের জেলা পরিষদ হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন প্রবর্তনের ফলে জমিদার শ্রেণীর সৃষ্টি হয় এবং রাজস্ব আদায়ের ভার ও গ্রামের শান্তি-শৃংখলা রক্ষার ভার এদের উপর অর্পিত হয়। এই পদ্ধতিকে একরকম স্থানীয় সরকার হিসাবে গণ্য করা হয়।

স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৮৭০ সালে চৌকিদারী পঞ্চায়েত আইন প্রবর্তিত হয়। পঞ্চায়েতের প্রধান কাজ ছিল কর আদায় ও আইন শৃংখলা রক্ষা করা। পঞ্চায়েত সদস্যরা সরকার কর্তৃক মনোনীত হতেন।

১৮৭৯ সালে লর্ড মেয়োর প্রস্তাবিত বেংগল রোড সেস এ্যাক্ট পাশ হয়। এটাই জেলা পর্যায়ে সর্বপ্রথম স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। ডিষ্ট্রিক্ট ম্যাজিষ্ট্রেট এই কমিটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এর প্রধান কাজ ছিল সেসের হার নির্ধারণ, আয় ও ব্যয়ের উদ্দেশ্যে নিরূপন। এই কমিটি সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে কাজ করত।

 ১৮৮৫ সালে বেংগল লোকাল সেলফ গভর্ণমেন্ট এ্যাক্ট আইন পাশ হয়। এই আইনে তিনস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত সরকার গঠিত হয়ঃ ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ড, লোকাল বোর্ড ও ইউনিয়ন কমিটি। প্রতিটি জেলায় ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ড গঠিত হয়। ১৯২৫ সাল পর্যন্ত ডিষ্ট্রিক্ট ম্যাজিষ্ট্রেট বোর্ডের পদাধিকার বলে সদস্য এবং চেয়ারম্যান ছিলেন। বোর্ড তিন বছরের জন্য গঠিত হত। ভাইস চেয়্যারম্যান সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হতেন।  ১৮৮৬ সালে ডিষ্ট্রিক্ট সেস কমিটির তহবিল এবং কার্যক্রম বোর্ডের অধীনে চলে যায় এবং কমিটির বিলুপ্ত ঘটে। যদিও এই আইনে বোর্ডের সদস্যদের নির্বাচনের নিয়ম ছিল, কিন্তু সকল সদস্যই মনোনীত হতেন এবং ডিষ্ট্রিক্ট ম্যাজিষ্ট্রেট সকল ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।

১৯১৯ সালে বেংগল ভিলেজ সেলফ গভর্ণমেন্ট এ্যাক্ট পাশ হয়। এই আইনে ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ড, লোকাল বোর্ড ও ইউনিয়ন বোর্ড নামে তিনস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার গঠিত হয়। ১৯২০ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচনের অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ডের কার্যক্রম ছিল যোগাযোগের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও পয়ঃ প্রণালী, পানি সরবরাহ, জন্ম-মৃত্যুর রেজিষ্ট্রার সংরক্ষণ, দাতব্য চিকিৎসালয় ও ডাকবাংলা সংরক্ষণ। পূর্বের আয়ের উৎসের সংগে ফেরী ব্যবহারের জন্য ফি আদায় এবং মোটরযানের উপর ট্যাক্সের আয়ের অংশ ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ডকে দেয়া হ’ত।

ক্রমিক নং

কর্মকর্তা/কর্মচারীর নাম

পদবী

মোবাইল নম্বর

১। শেখ সামসুল আবেদীন চেয়ারম্যান ০১৭১১-৬৮৮১৩৫
২। মো: কামরম্নল আরিফ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ০১৭৩৩-০৭৪০৩৬
৩। মো: মাহাবুব আলম সহকারী প্রকৌশলী (ডেপুটেশন) ০১৭১১-২৬৭৭১২
৪। মো: রমজান আলী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ০১৭৬২-২৫৯৪২৪
৫।   উপ-সহকারী প্রকৌশলী  
৬। মো: ইসরাইলহোসেন প্রধান সহকারী ০১৭১৯-৯১৭৯০৫
৭। মো: আসলাম উদ্দিন হিসাব রক্ষক(চ:দা:) ০১৭২০-৩০২৫২৫
৮। বেদানা খাতুন উচ্চমান সহকারী ০১৯২৩-৮৩৭০৩১
৯। মো: জালাল উদ্দিন গোপনীয় সহকারী (অঃ দাঃ) ০১৭১৭-৭৬২৫৯২
১০। মৌসুমী আক্তার সাঁটলিপিকার ০১৯২৩-৭৬৩৭৫৫
১১। মো: মাহফুজুর রহমান ইলেকট্রিশিয়ান ০১৯১২-৮৬৩২৫৮
১২। মো: মোফাজ্জেল হোসেন ড্রাইভার ০১৮১৯-৮৯৪২৮৬
১৩। মো: মনজেল হক ড্রাইভার ০১৭২৬-৮৬৫৭১০
১৪। মো: শহিদুল ইসলাম ডুপ্লিকেটিং মেশিন অপারেটর -কাম- দপ্তরী ০১১৯০-৩৯২১৪৩
১৫। মো: শরিফুল ইসলাম বার্তাবাহক ০১৭১৮-৬৬৯২৪২
১৬। মো: কবির উদ্দিন এমএলএসএস ০১৯৩৭-৪৪৪৪১০
১৭। মো: ইজাবুল হক এমএলএসএস ০১৯২৫-৬৩১২৫৬
১৮। মো: নাজিমুল হক এমএলএসএস ০১৯৮৬-৮৫০৯৯৭
১৯। মো: আলেক হোসেন এমএলএসএস ০১৭২০-১৪০০১৮
২০। মো: নুর আলম এমএলএসএস ০১৯২৩-৯২৭১৩৫
২১। মো: মাহফুজুর রহমান এমএলএসএস ০১৭৪৫-৩৭৯২৯২
২২। মোঃ জাকির হোসেন বাপ্পী এমএলএসএস ০১৭২৮-৯৭৩৯৬৫
২৩। জবেদা খাতুন ঝাড়ুদার ০১৭৬৩-৬৪৫৬২৮
২৪। মো: দেলোয়ার হোসেন দারোয়ান-কাম-কেয়ারটেকার ০১৯১৩-২২৬২৭৬
২৫। মো: ডাবলুর রহমান দারোয়ান-কাম-কেয়ারটেকার ০১৯৩৬-৯২২৫৬০
২৬। মো: আজিজুল হক দারোয়ান-কাম-কেয়ারটেকার ০১৯১৭-১৪৯৩৭৩
২৭। মো: শহিদুল ইসলাম দারোয়ান-কাম-কেয়ারটেকার ০১৭১২-৫৩১৭১৮
২৮। মো: জুলমত আলী প্রহরী ০১৯১৬-৪৯২৯১৮
২৯। মো: আবুল কাশেম প্রহরী(নাইট গার্ড) ০১৭৭৭-১৯৯৮৫৫
৩০। মো: ছমির উদ্দিন খাঁন দারোয়ান-কাম-কেয়ারটেকার ০১৯৩৯-৭২৯০২৭
৩১। মো: সোহানুর রহমান উদ্দ্যেক্তা ০১ ০১৯১২-৫০২৫২৭
৩২। জান্নাতুল সাবরিন মিতু উদ্দ্যেক্তা ০২ ০১৯৭১-২১৬০৭৫
৩৩। মো: জুয়েল রানা ০১৯৫৩-৩৮৭৯১৪
৩৪। মো: আব্দুল কুদ্দুস  
৩৫। মো: বায়েজিদ ঈমাম ০১৭২৯-৭১৬৫১৬

১৯৩৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ডের সকল নির্বাচন পরোক্ষ ছিল। ১৯৩৬ সালে বেংগল লোকাল সেলফ গভর্ণমেন্ট এ্যাক্ট ১৮৮৫ সংশোধিত হল। লোকাল বোর্ড বিলুপ্ত করা হয়। এই সংশোধনে দুই তৃতীয়াংশ সদস্য নির্বাচিত এবং এক তৃতীয়াংশ সদস্য মনোনিত হতেন। মনোনীত সদস্যের মধ্যে সরকারী ও বেসরকারী সদস্যও ছিলেন। ভোটদাতাগণের বয়স ২১ বছর এবং তাকে স্থানীয় বাসিন্দা হতে হবে। তাকে ৮ আনা সেস ও ৬ আনা চৌকিদারী ট্যাক্স দিতে হতো এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হতো। মহিলাদের জন্য ভোট দেয়ার ব্যবস্থা ছিল না। এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল।

পাকিস্তান শাসনামলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সার্বজনীন ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। এই বিষয়ে একটি কমিটি গঠিত হয় এবং কমিটি ১৯৫৬ সালে রিপোর্ট পেশ করেন। কিন্তু এর বাস্তবায়নের পূর্বেই দেশে সামরিক শাসন প্রবর্তিত হয়।

১৯৫৯ সালের বেসিক ডেমোক্রেসি অর্ডার’ এর মাধ্যমে তৃতীয় বারের মতো স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়। ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ডের নাম হলো জেলা কাউন্সিল। এই কাউন্সিল ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সরকারী কর্মচারী ও নিয়োগকৃত সদস্য দ্বারা পরিচালিত হতো। জেলা প্রশাসক জেলা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হতেন এবং বেসরকারী সদস্যরা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতেন। এই অর্ডারে জেলা কাউন্সিলের কর্মসূচী ব্যাপক। কিছু কাজ ছিল বাধ্যতামূলক ও কিছু কাজ ছিল ঐচ্ছিক। আবশ্যক কাজের সংখ্যা ছিল ২৮ টি এবং ঐচ্ছিক কার্যের সংখ্যা ছিল ৭০ টি। সরকারী অনুদান ছাড়াও কর, টোল, ফি ইত্যাদি ২৯ টি উৎস থেকে আয়ের মাধ্যমে কাউন্সিল তহবিল গঠন করা হতো। কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন ৫০% সরকারী অফিসার, ২৫% নিয়োগকৃত প্রতিনিধি, ২৫% চেয়ারম্যান ইউনিয়ন কাউন্সিল ও টাউন কমিটি। এই কাউন্সিল ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ড কমিটির চাইতেও সাংগঠনিকভাবে অগনতান্ত্রিক ছিল। এর পর ১৯৬২ সালে ৫০% নির্বাচিত ও ৫০% সরকারী সদস্য করা হয়। নির্বাচনের সকল ক্ষেত্রই পরোক্ষ ছিল। সকল ক্ষেত্রেই ডিপুটি কমিশনার চেয়ারম্যান হিসাবে প্রধান ভূমিকা পালন করতেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পূর্বের ব্যবস্থা ভেংগে দিয়ে প্রেসিডেন্ট ১৯৭২ সালে ৭ নং অধ্যাদেশ জারী করেন। এই আদেশে জেলা কাউন্সিলের নাম করণ হয় জেলা বোর্ড। ডেপুটি কমিশনার বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য ছিলেন। জেলা প্রশাসনের নিয়োগকৃত পল্লী উন্নয়ন সহকারী পরিচালক জেলা বোর্ডের সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন।

১৯৭৬ সালে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে জেলা বোর্ডের নাম করা হয় জেলা পরিষদ। এই অধ্যাদেশে নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকলেও অধ্যাদেশ জারী হওয়ার পর প্রকৃত কোন নির্বাচন হয়নি। সুতরাং পূর্বের নিয়মেই এই পরিষদ চলতে থাকে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পূর্নগঠিত করার জন্য সামরিক সরকার ১৯৭৬ সালে লোকাল গভর্ণমেন্ট অধ্যাদেশ জারী করেন। ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ এই তিনস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার গঠিত হয়। পরিষদের সদস্যগণ ছিলেন নির্বাচিত, সরকারী ও মহিলা। ১ জন চেয়ারম্যান ও ১জন ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। পরিষদের কার্য্যকাল ছিল ৫ বছর। তুলনামূলকভাবে এই অধ্যাদেশ পূর্বের চাইতে গণতান্ত্রিক ছিল। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে অধ্যাদেশের বিধিগুলি বাস্তবায়িত হয়নি। সেজন্য জেলা পরিষদ কোন দিক থেকেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেনি।

  • চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি ও জেলার বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন/মার্কেট নির্মাণ কাজ পরিকল্পনাধীন আছে। শীঘ্রই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্ল্যান-ডিজাইনসহ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে। মার্কেট নির্মিন হলে বার্ষিক প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা জেলা পরিষদের আয়  হবে।
  • চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি ও জেলার বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে খালি জমিতে বহুতল বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস বাণিজ্যিক ভবনের প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। শীঘ্রই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্লান-ডিজাইনসহ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে। মার্কেটটি নির্মিত হলে বার্ষিক প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা জেলা পরিষদের আয়  হবে।
  • চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি ও জেলার বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে জেলা সদরে অবস্থিত পুরাতন  বাস ষ্ট্যান্ডের সন্নিকটে বহুতল বিপনী বিতান ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। শীঘ্রই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্লান-ডিজাইনসহ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে। 
  • শিক্ষিত বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে স্বল্পমূলে/বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান এবং  ঘরে বসে অর্থ উপর্জনের লক্ষ্যে আউটসোর্সিং/ফ্রি-ল্যান্সিং এর উপর এবং ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ এর উপর প্রশিক্ষণ প্রদানের নিমিত্ত জেলা পরিষদ চত্বরে একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আইসিটি সেন্টার)স্থাপন এবং প্রতিটি উপজেলায় এ কেন্দ্রের একটি করে শাখা স্থাপনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।
  • খাদ্যে ভেজাল রোধ, বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্যে ফরমালিন ও অন্যান্য বিষাক্ত ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রনের ফলে জনগণের মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ও পরিবেশ দূষন রোধকল্পে স্থানীয় জনসাধারণ ও সংশিস্নষ্ট সকল বিভাগের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এরূপ স্বাস্থ্য হানিকর কর্মকান্ডের বিরম্নদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে একটি সমন্বিত কর্মসূচী গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
  • চুয়াডাঙ্গা জেলার শিক্ষিত/অর্ধ শিক্ষিত বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র বিমোচন ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আগ্রহী যুৃবকদের ড্রাইভিং, কার্পেন্টার, ইলেকট্রিক, রেডিও-টেলিভিশন মেরামত, মটর মেকানিক ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র: জেলা পরিষদ, চুয়াডাঙ্গা